ঢাকা, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা


দেশজুড়ে

প্রকাশিত: ১১:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২১

এক্সপ্রেস ডেস্ক ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালে দিনে দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বরিশাল আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছিল ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর গত ৮ বছরে সর্বনিম্নতাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করেছে।

তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়ামের নিচে আর নামেনি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন অর্থাৎ বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ুতে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তার আলামত খুবই স্পষ্ট। বিশ্ব জলবায়ু ও আবহাওয়ায় যে রকম তারতম্য বিদ্যমান রয়েছে, তার প্রভাব বরিশালেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

বরিশাল আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রের্কড হয়েছিল ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর যথাক্রমে ২০১৪ সালে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৫ সালে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৬ সালে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৮ সালে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৯ সালে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০২০ সালে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার মো. আনিসুর রহমান জানান, গত ৮ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ওই বছরের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আর নামেনি। তাছাড়া প্রায় এক যুগ ধরে আবহাওয়ার বিচিত্র আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

‘একদিকে চলছে বৃষ্টিপাত, অন্যদিকে ঊর্ধ্বমুখী রাতের তাপমাত্রা। একই সময়ে দেশের একস্থানে বৃষ্টিপাত, অন্যস্থানে প্রচণ্ড গরম দেখা যায় না। সাধারণত এক জায়গায় বৃষ্টিপাত হলে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও তাপমাত্রা সমান অনুপাতে কমে যায়। কিন্তু গত কয়েক বছর তাপমাত্রার এই বিচিত্র আচরণ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ব জলবায়ু ও আবহাওয়ায় যে রকম তারতম্য বিদ্যমান রয়েছে, তার প্রভাব এখানেও প্রতিফলিত হচ্ছে।’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ও আবহাওয়া গবেষক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জলবায়ুতে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তার আলামত খুবই স্পষ্ট। দেশে গত এক যুগে প্রকৃতির অস্বাভাবিক আচরণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তির দিকে।

যেমন বৃষ্টি, বন্যা, ঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের কারণে দেশের উপকূল থেকে উত্তরাঞ্চলের সব এলাকার মানুষ গত কয়েক বছরে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভুগেছে। অন্যদিকে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি একেবারেই এলোমেলো হয়ে উঠেছে। যখন বৃষ্টি শুর” হওয়ার কথা নয়, তখন বৃষ্টি হচ্ছে। আবার যখন বৃষ্টি হওয়ার কথা প্রতিদিনই, তখন বৃষ্টি হচ্ছে না।’ ‘শীত মৌসুমে শীত কম অনুভূত হওয়া, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি বন্যা ও ঘনঘন নি¤œচাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন অথবা বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন দৃশ্যমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে চলেছে।’ বিশ্বের প্রথমসারির পরিবেশ বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের ‘ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (আইপিসিসি)-এর এক সমীক্ষা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘১৮৯০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১০০ বছরে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়েছিল দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অথচ গত ৩০ বছরে আশঙ্কাজনক হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। আমরা যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে না পারি, তবে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আর নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকবে না। তবে কোনো একক দেশ বা অঞ্চলের পক্ষে এই গুর”তর সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ কারণেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং এ সমস্যার সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’ ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে বিশ্বের সব দেশের মতো বাংলাদেশকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

তা নাহলে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের মানুষের ক্ষণে ক্ষণে আবহাওয়ার রূপবদল দেখতে হবে। ঘনঘন নি¤œচাপ, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত, খরা, অতিবৃষ্টি আর বন্যার মুখোমুখি হতে হবে। এসবের জন্য তৈরি থাকতে হবে’ সতর্ক করে দেন এই আবহাওয়া গবেষক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top