ঢাকা, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইন্দুরকানীতে কৃষকের হাতে প্রাণ গেল বাবুই পাখির দেড় শতাধিক ছানার


জেলার খবর

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২১

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে প্রায় দেড় শতাধিক বাবুই পাখির ছানা মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক কৃষকের বিরুদ্ধে। এমনকি শতাধিক বাবুই পাখির বাসাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু মাত্র ক্ষেতের কিছু ধান খেতে ফেলেছে এ কারনে পাখির বাসা ভেঙে পাখির ছানাগুলো নির্মম ভাবে মেরে ফেলেছেন এক কৃষক। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিন ভবানিপুরে এমন নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে। দক্ষিণ ভবানিপুরের কৃষক লুৎফর মোল্লা ও তাদের কৃষি কাজের সহযোগি নাজিরপুরের শুনিল এবং সুভাষ অন্তত শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ভেঙ্গে ফেলেন। পাখির বাসা ভেঙে ফেলার পর কিছু বাসা খালের পানিতেও ফেলে দেন ঐ কৃষকেরা।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিন ভবানিপুর গ্রামে লুৎফর মোল্লা নামে এক কৃষক তার তিন ভাই মিলে ধান রোপন করেছেন মাঠে। সে জমির ধান নস্ট করায় তারা দুটি তাল গাছের শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ভেঙে ফেলেছেন। কারণ এখনো তাদের খেতের ধান পরিপক্ক হয় নাই। যে বাসা গুলোতে অনেক পাখির ছানা ও ডিম ছিল। রাস্তা, ডোবা, খাল ও ঝোপ ঝাড়ের এ পাখির ছানা গুলোকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিয়েছেন তারা। আর এর ছবি তুলে স্থানীয় কয়েক যুবক তাদের ফেসবুক আইডিতে আজ সন্ধ্যার পর পোষ্ট করলে এটি মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপর এটি নজরে আসে স্থানীয় সবার।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত লুৎফর মোল্লার বড় ভাই ঘোষেরহাট বাজারের খুচরা সার ডিলার হেমায়েত মোল্লা জানান, বিএডিসির প্রকল্পে ৫০ বিঘারও বেশি জমিতে আমরা তিন ভাই বোরো ধান রোপন করেছি। যার মধ্য থেকে বাবুই পাখিতে ২৫ ভাগেরও বেশি জমির ধান ইতোমধ্যে নষ্ট করে ফেলেছে। তাই আমার ছোট ভাই লুৎফর মোল্লা ও আমাদের দুই জন শ্রমিক কিছু পাখির বাসা ভেঙেছে। তারা কোন পাখি মারে নাই। হয়তো ওই বাসাগুলোতে কয়েকটা ডিম থাকতে পারে। বাবুই পাখি মারা এতোটা সহজ নয়।

স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, বিষয়টি একেবারে অমানবিক। এর জন্য ঐ কৃষকের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ জানান, এটি অমানবিক। এতে করে পরিবেশের ক্ষতি হবে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলে তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top