ঢাকা, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আমতলী সরকারি কলেজে ফরম পুরণে লাগে দ্বিগুন টাকা!

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে বরগুনার আমতলী সরকারী কলেজের ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের ফরম পুরণে দ্বিগুন টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় ফরম পুরণের শেষ দিনেও অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরন করতে পারেনি। দ্রুত তারা ফরম পূরনে অতিরিক্ত টাকা নেয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। জানাগেছে, আমতলী সরকারী কলেজের ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষে এ বছর সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় গত ২৩ জানুয়ারী থেকে ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষে ফরম পুরণের জন্য তারিখ ঘোষনা করে। গত এক মাস যাবৎ ফরম পূরনের কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার এ ফরম পূরনের শেষ দিন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফরমপূরন বাবদ ১ হাজার ৪’শ টাকা ও কেন্দ্র ফি বাবদ ৪’শ ৫০ টাকাসহ মোট এক হাজার ৯’শ ৫০ টাকা নির্ধারন করে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান বিভিন্ন খাত দেখিয়ে দ্বিগুন ফি অর্থাৎ ৪ হাজার ৪২০ টাকা আদায় করছেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অতিরিক্ত ফি না দিতে পারায় অনেক শিক্ষার্থীর ফরম পূরন অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। মঙ্গলবার ফরম পূরনের শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা এসে অধ্যক্ষের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু অধ্যক্ষ বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে কলেজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ফরম পূরনের শেষ দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরন করেছে। এখনো অন্তত এক’শ শিক্ষার্থীর ফরম পূরন করতে পারেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরম পূরন করতে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান ফরম পুরনে ৪ হাজার ৪২০ টাকা ধার্য্য করেছেন। ওই একই বর্ষের ফরম পুরণে অন্য সকল বে-সরকারী কলেজে দুই হাজার দুই’শ টাকা ধার্য্য করেছে। করোনাকালীন সময়ে ওই পরিমান টাকা দিয়ে ফরম পূরন খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তারা আরো বলেন, ফরম পূরনে দ্বিগুন টাকা ধার্য্য করে অধ্যক্ষ অফিসে আসছেন না। টাকা কমানোর জন্য আমরা তার জন্য ধর্ণা দিয়েও পাচ্ছি না। সরকারী কলেজে কম টাকা নেয়ার কথা সেখানে তারা বে-সরকারী কলেজের চেয়ে দ্বিগুন বেশী টাকা আদায় করছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা। ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মিরাজ হাওলাদার বলেন, ফরম পূরন বাবদ আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ৪ হাজার ৪’শ ২০ টাকা ধার্য্য করেছেন। যেখানে অন্য সকল বে-সরকারী কলেজে নিচ্ছে মাত্র দুই হাজার দুই’শ টাকা। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অভাব অনাটনের কারনে এতো দিন ফরম পূরন করতে পারিনি। ফরম পূরনের শেষ দিনে টাকা কমানোর জন্য অধ্যক্ষের কাছে আসছি কিন্তু তিনি অফিসে আসেননি। আমতলী সরকারি কলেজের ডিগ্রী তৃর্তীয় বর্ষের ফরম পূরণ কমিটির সদস্য মোঃ শাহজাহান ফারুক বলেন, সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থীর মধ্যে এ পর্যন্ত দুই’শ ৪৭ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরন করেছে। আরো কিছু শিক্ষার্থী ফরম পূরন করতে আসতে পারে। ফরম পূরনে শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি অধ্যক্ষ ভালো বলতে পারবেন। আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই মুঠোফোনের লাইন কেটে নিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Top