admin
৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আলঝেইমার: ইসাই ও বায়োজেনের ওষুধে বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মিলেছে গবেষণায়

আলঝেইমার রোগটি ডিমেনশিয়ার একটি সাধারণ রূপ। এই রোগকে মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগও বলা হয়। আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় একটি ওষুধ তৈরি করেছে জাপানি ওষুধ কোম্পানি ইসাই ও মার্কিন কোম্পানি বায়োজেন। সম্প্রতি লেকানেম্যাব নামের ওষুধটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্স জানায়, আলঝেইমারের ওষুধ লেকানেম্যাব রোগের তীব্রতা কিছুটা ধীর করে দিলেও এর রয়েছে বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি। লেকানেম্যাব ওষুধটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর ১২ দশমিক ৬ শতাংশ রোগীর মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ১৪ শতাংশ রোগীর মস্তিষ্কে মাইক্রোহেমোরেজ দেখা দেয়। এমনকি লেকানেম্যাব গ্রহণকারীদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আর অন্তত পাঁচজন ম্যাক্রোহেমারেজের শিকার হয়েছেন। ১৮ মাসের এই ট্রায়ালে প্রাথমিক পর্যায়ের আলঝেইমারে আক্রান্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন অংশ নেয়।

লেকানেম্যাব হলো একধরনের অ্যান্টিবডি, যা মস্তিষ্ক থেকে অ্যামিলয়েড দূর করতে ইমিউন সিস্টেমকে সহায়তায় কাজ করে। আর অ্যামিলয়েড হলো একধরনের প্রোটিন। ধারণা করা হয়, মস্তিষ্কে অ্যামিলয়েড বিটা নামক এই প্রোটিন উৎপন্ন হয়, যা পরে মস্তিষ্কের ভেতর রক্তকণিকায় দলা পাকিয়ে অ্যামিলয়েড ফলক গঠন করে। এই অ্যামিলয়েড ফলকই মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। অর্থাৎ আলঝেইমারের রোগের অন্যতম কারণ।

এদিকে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) শিগগিরই লেকানেম্যাব ওষুধটির অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। আর আগামী বছর বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ওষুধটির অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে ইসাই ও বায়োজেন।

চিকিৎসকদের মতে, আলঝেইমার একটি প্রগ্রেসিভ নিউরোলজিক রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের কোষগুলো আস্তে আস্তে মারা যায়। সাধারণত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম বয়সীদেরও এই রোগ হতে পারে। আলঝেইমারে আক্রান্তরা প্রথমে সামান্য বিভ্রান্ত হয় এবং অনেক কিছু ভুলে যেতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি বা ভাবনার শক্তিকে ধ্বংস করে দেয় রোগটি। ফলে সহজ কাজগুলো করার ক্ষমতাও চলে যায় মানুষের। তবে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী, শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ

বিএনপির বিজয় ঠেকাতে ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হয়েছে : তারেক রহমান

চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে

তৃণমূল ও মিডিয়ায় যোগাযোগ বাড়াতে বিএনপির ৭ টিম গঠন

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়বে বিএনপি : তারেক রহমান

ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে : মির্জা ফখরুল

‘সমালোচনার মুখে প্রতীকের তালিকায় শাপলা কলি, প্রয়োজন মনে করলে আবারও সংশোধন’

সাবেক এমপি জয়ের ১২০৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তদন্তে সিআইডি

ফরিদপুরে আওয়ামী দোসরদের বিএনপিতে পদ পাওয়ার হিড়িক

গণভোট কবে হবে, দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধান উপদেষ্টা : আইন উপদেষ্টা

১০

মুরাদনগরে সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদের গণসংযোগে জনতার ঢল

১১

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমরা ঐক্যের সুর বাজালাম : প্রধান উপদেষ্টা

১২

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ

১৩

‘বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দিচ্ছে, আশ্রয় দিয়েছে ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে’

১৪

মিশর সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গাজা শান্তিচুক্তি সই

১৫

আওয়ামী দোসর ‘বালুখেকো সাত্তার’ বিএনপি নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে!

১৬

কাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

১৭

ইসরায়েল থেকে মুক্তি পেয়ে ইস্তাম্বুল পৌঁছেছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

১৮

ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা সেলিম রেজাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি কাজিপুর বিএনপির

১৯

আমাদেরকে স্বনির্ভর হতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

২০