admin
১৪ জুলাই ২০২৫, ৬:৪২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নিম্ন আদালতে তারেক-জুবাইদার নিরপেক্ষ বিচার হয়নি : হাইকোর্ট

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতের বিচারে নানান অসঙ্গতি উঠে এসেছে। যেখানে দ্রুতি গতিতে সাক্ষী নেয়া ও রায় ঘোষণা করা, জুবাইদা রহমানকে নোটিশ ইস্যু না করা এবং অভিযোগ গঠনে আইনের ব্যত্যয় হয়েছে বলে পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের মতে, বিচারিক আদালতে দুই মাস চার দিনে ৪২ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া এবং সাক্ষী শেষে আট দিনের মধ্যে রায় দেয়ার এমন দ্রুত গতি ও সমাপ্তি ব্যাপবকভাবে বিশ্বাস তৈরি করে যে, বিচার নিরপেক্ষভাবে হয়নি।

গত ২৮ মে এই রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মো.খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। সোমবার ওই রায়ের ৫২ পৃষ্ঠার অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। রায়ে ডা.জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস দিয়েছেন। আর এই রায়ের সুবিধা পেয়ে তারেক রহমান দুই ধারায় মোট নয় বছর সাজা থেকে খালাস পেয়েছেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, নথি থেকে জানা যায় যে, ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দুই মাস চার দিনের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সাক্ষ্য নেয়া আট দিন পরে অবিলম্বে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। এত দ্রুত গতিতে বিচারের অগ্রগতি ও সমাপ্তি ব্যাপক বিশ্বাস তৈরি করে যে এটি নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি।

দুদক আইনে ২৬ (১) ধারা অনুসারে নোটিশ দেয়ার বিধান সম্পর্কে হাইকোর্ট বলেন, নোটিশ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। যেহেতু কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি, তাই তাকে (জুবাইদা রহমানকে) দোষী সাব্যস্তকরণ এবং সাজা আইন অনুসারে টিকে না এবং এটা বাতিলযোগ্য।

এ ছাড়া আপিলকারীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারার বিধানগুলো পালন করা হয়নি। অতএব, এই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ও সাজা বহাল রাখা যায় না।

রায়ে তারেক রহমান নিয়ে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশর উচ্চ আদালতের নজির অনুসারে যেহেতু মামলায় নানান অসঙ্গতি রয়েছে, সেহেতু পুরো রায়টি বাতিলযোগ্য। তাই এ ক্ষেত্রে তারেক রহমানও খালাসের সুবিধা পেয়েছেন।

আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান। আপিলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এস এম শাহজাহান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল করিম।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমাদের দেয়া যুক্তি আইনগতভাবে যে সঠিক ছিল, সেটা হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রমাণিত হলো। আমরা বলেছি তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিলো। জাস্টিস হারিড জাস্টিস বারিড। দ্রুত শুধু সাক্ষী নেয়াই শেষ নয়, এখানে মোমবাতি জালিয়েও সাজা দেয়ার জন্য দ্রুত বিচার কাজ চালিয়েছিল বিচারিক আদালত।

গত ২৬ মে শুনানি শেষে আপিলের রায় দিতে ২৮ মে দিন ধার্য করেছিলেন উচ্চ আদালত।

এর আগে গত ১৪ মে ডা. জুবাইদা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জরিমানা স্থগিত করে ওইদিন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেয়া হয়।

গত ১৩ মে আপিল দায়েরে ৫৮৭ দিনের বিলম্ব মার্জনা করেন হাইকোর্ট। বিলম্ব মার্জনার পর ডা. জুবাইদা রহমান সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান, জুবাইদা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক।

এ মামলার বিচার শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তারেক রহমানকে দুই ধারায় মোট নয় বছর এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তারেক রহমানকে তিন বছর এবং ২৭(১) ধারায় ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি তাকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

জুবাইদা রহমানকে ২৭(১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। ১৭ বছর পর চলতি বছরের ৬ মে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী, শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ

বিএনপির বিজয় ঠেকাতে ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হয়েছে : তারেক রহমান

চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে

তৃণমূল ও মিডিয়ায় যোগাযোগ বাড়াতে বিএনপির ৭ টিম গঠন

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়বে বিএনপি : তারেক রহমান

ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে : মির্জা ফখরুল

‘সমালোচনার মুখে প্রতীকের তালিকায় শাপলা কলি, প্রয়োজন মনে করলে আবারও সংশোধন’

সাবেক এমপি জয়ের ১২০৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তদন্তে সিআইডি

ফরিদপুরে আওয়ামী দোসরদের বিএনপিতে পদ পাওয়ার হিড়িক

গণভোট কবে হবে, দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধান উপদেষ্টা : আইন উপদেষ্টা

১০

মুরাদনগরে সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদের গণসংযোগে জনতার ঢল

১১

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমরা ঐক্যের সুর বাজালাম : প্রধান উপদেষ্টা

১২

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ

১৩

‘বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দিচ্ছে, আশ্রয় দিয়েছে ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে’

১৪

মিশর সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গাজা শান্তিচুক্তি সই

১৫

আওয়ামী দোসর ‘বালুখেকো সাত্তার’ বিএনপি নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে!

১৬

কাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

১৭

ইসরায়েল থেকে মুক্তি পেয়ে ইস্তাম্বুল পৌঁছেছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

১৮

ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা সেলিম রেজাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি কাজিপুর বিএনপির

১৯

আমাদেরকে স্বনির্ভর হতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

২০