admin
৬ অগাস্ট ২০২৫, ৪:৩৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলা গণহত্যা উপেক্ষিত : হেফাজতে ইসলাম

জুলাই ঘোষণাপত্রে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি নেই। এ নিয়ে হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। বুধবার গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার এ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, মূলত শাপলা চত্বরের গণপ্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও তৌহিদি জনতা দলে দলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অকাতরে রক্ত দিয়েছে, জান দিয়েছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পঠিত জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলা গণহত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি দূরের কথা, কোনো উল্লেখও নেই! ঘোষণাপত্র পাঠকালে হেফাজত নেতারা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এমনটি হয়েছে। ফলে এটি যে সচেতনভাবে করা হয়েছে, এতে সন্দেহ নেই। ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এতে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। আমরা হতাশ ও বিস্মিত! সামনে দিন আরও আছে। এই উপেক্ষার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের মনে থাকবে।

তারা আরও বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে তৌহিদি জনতা আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও হিন্দুস্তানি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের অভূতপূর্ব নজির গড়ে তুলেছিল। ওই বছরের ৫ মে ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলে হেফাজতে ইসলাম। সেদিন মতিঝিল শাপলা চত্বরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাতের আঁধারে নিরীহ-নিরস্ত্র আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর গণহত্যা চালায় যৌথ বাহিনী। তারা বহু লাশ গুম করেছিল। সেই গণহত্যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল। এ ছাড়া নরেন্দ্র মোদির আগমনবিরোধী প্রতিরোধেও শহীদ হন প্রায় দুই ডজন আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।

নেতারা বলেন, শাপলার শহীদদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা আজও সেই রাতের ট্রমা থেকে বের হতে পারেননি। তারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ এখনও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার সাজানো প্রশাসন ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। অত্যাচারীরা এখনও বহাল। সাক্ষীদের দীর্ঘদিনের মানসিক ভীতি ও ট্রমা কাটাতে এবং তাদের আস্থায় আনতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে শাপলা গণহত্যার বিচারকাজ আগানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, শেখ হাসিনার ষোল বছরের শাসনজুড়ে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী গণপ্রতিরোধের প্রেরণা ও পথিকৃৎ হেফাজতে ইসলাম। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ওলামায়ে কেরামের আত্মত্যাগ ও অবদান ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৪ এপ্রিল থেকে কৃষক কার্ড চালু করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক ভাতার চেক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আগামীকাল

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান

পাবনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কৃষিবিদ তুহিনের পক্ষে গণজোয়ার

নারী নিরাপত্তায় রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জায়মা রহমানের

আজ ঢাকার ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা

মামলাবাজ ও চাঁদাবাজ সেলিমের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ

সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে : তারেক রহমান

১০

৯ ফেব্রুয়ারি ধুপখোলা মাঠে বিএনপির সমাবেশ, অংশ নেবেন তারেক রহমান

১১

কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিএনপির ইশতেহারে প্রাধান্য পেলো যে ৯ প্রতিশ্রুতি

১২

এক্স আইডি হ্যাকের পর যারা মিথ্যাচার করছে তাদের ক্ষমা করে দিলাম : জামায়াত আমির

১৩

বিএনপির ইশতেহারে ৫১ দফা এবং ৯ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

১৪

ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : তারেক রহমান

১৫

কড়াইল বস্তি বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট করে দেয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের

১৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা অপপ্রচার ছড়িয়ে ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে : সিইসি

১৭

এমন জাদুঘরের প্রয়োজন ভবিষ্যতে যেন আর না হয় : প্রধান উপদেষ্টা

১৮

প্রতিটি অন্যায়ের বিচারের জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সরকার : তারেক রহমান

১৯

আওয়ামী লীগের মতোই জঘন্য কাজ করছে জামায়াত : কায়কোবাদ

২০