তাইওয়ানের কাছে সম্প্রতি অনুমোদিত মার্কিন অস্ত্র বিক্রির জন্য ‘সংকল্পবদ্ধ পাল্টা ব্যবস্থা’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। একইসঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে মার্কিন ভূখণ্ড দিয়ে যাত্রাবিরতি করার ব্যবস্থা করায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দাও করেছে দেশটি। রবিবার (১ ডিসেম্বর) চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার পেন্টাগন জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাইওয়ানের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও রাডারের খুচরা যন্ত্রাংশসহ আনুমানিক ৩৮৫ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য সামরিক বিক্রয় অনুমোদন করেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাইপের তিনটি কূটনৈতিক মিত্র দেশ সফরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই বিক্রির ঘোষণা করা হয়েছিল। সফরের সময় লাই হাওয়াই ও মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে যাত্রাবিরতি নেন।
এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই বিক্রি তাইওয়ানের স্বাধীনতা বাহিনীকে ‘একটি ভুল সংকেত’ পাঠায় ও মার্কিন-চীন সম্পর্ককে ক্ষুণ্ণ করে।
মন্ত্রণালয় একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে যে কোনও আনুষ্ঠানিক বিনিময়ের দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে এবং যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর নিন্দা’ করে।
স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে চীন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখে। লাইকে তীব্রভাবে অপছন্দ করে বেইজিং এবং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করে। তবে তাইওয়ান বরাবরই চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
বেইজিংয়ের ক্রমাগত ক্ষোভের জন্য ওয়াশিংটন ও তাইপেইয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি আইনের অধীনে আবদ্ধ।
মন্তব্য করুন