admin
২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

এমন জাদুঘরের প্রয়োজন ভবিষ্যতে যেন আর না হয় : প্রধান উপদেষ্টা

গণভবনে বানানো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোথাও আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।’

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের সময় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

পরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুহাম্মদ ইউনূস বিকেল ৩টার দিকে জাদুঘরে পৌঁছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত দমন-পীড়নের চিত্র ঘুরে দেখেন। এ সময় জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি তাকে অবহিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে বিগত শাসনামলে ‘গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার’ চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।’

দেশের নাগরিকের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ আমলে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পাওয়া গোপন নির্যাতনকেন্দ্রের প্রসঙ্গ ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে, সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে। আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা যেন উপলব্ধি করতে পারে, কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল! এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি, সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না।’

জুলাই অভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে–এটাই আমাদের শিক্ষা।’

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের কাজে নিয়োজিত সকলকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলেমেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকর হয়ে থাকবে এটা। ভবিষ্যত রাজনৈতিক ডিসকোর্স-শিক্ষা-গবেষণায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যান্যরা প্রধান উপদেষ্টাকে পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।

জাদুঘর পরিদর্শনের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন- আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

গুমের শিকার পরিবারেরগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা তুলি ও গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ‍্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আগামীকাল

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান

পাবনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কৃষিবিদ তুহিনের পক্ষে গণজোয়ার

নারী নিরাপত্তায় রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জায়মা রহমানের

আজ ঢাকার ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা

মামলাবাজ ও চাঁদাবাজ সেলিমের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ

সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে : তারেক রহমান

৯ ফেব্রুয়ারি ধুপখোলা মাঠে বিএনপির সমাবেশ, অংশ নেবেন তারেক রহমান

কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিএনপির ইশতেহারে প্রাধান্য পেলো যে ৯ প্রতিশ্রুতি

১০

এক্স আইডি হ্যাকের পর যারা মিথ্যাচার করছে তাদের ক্ষমা করে দিলাম : জামায়াত আমির

১১

বিএনপির ইশতেহারে ৫১ দফা এবং ৯ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

১২

ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : তারেক রহমান

১৩

কড়াইল বস্তি বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট করে দেয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের

১৪

সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা অপপ্রচার ছড়িয়ে ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে : সিইসি

১৫

এমন জাদুঘরের প্রয়োজন ভবিষ্যতে যেন আর না হয় : প্রধান উপদেষ্টা

১৬

প্রতিটি অন্যায়ের বিচারের জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সরকার : তারেক রহমান

১৭

আওয়ামী লীগের মতোই জঘন্য কাজ করছে জামায়াত : কায়কোবাদ

১৮

বিএনপির পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছাতে নেতাকর্মীদের আহ্বান তারেক রহমানের

১৯

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে সোমবার

২০