বরিশালে মধ্য রাতে মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে ঘোষণা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত একটার পর নগরীর বিভিন্ন এলাকাসহ বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, কাউনিয়াসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ থেকে এমন মাইকিং করা হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনিও এ ধরনের ঘোষণা শুনেছেন। তবে গুজব না সত্য সেই বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।
প্রকৃত কি ঘটনা, জানার জন্য মাঠে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা গুজব। রোববার রাতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর বন্দর ও বাবুগঞ্জের পূর্ব ভুতেরদিয়া গ্রামের একটি বিয়ে বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর সূত্র ধরে কেউ আবার গুজব ছড়াচ্ছে।”
আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “নগরীর নিরাপত্তায় যথেষ্ট পুলিশ রয়েছে।”
নগরীর আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা মাহাদি হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার এলাকায় মসজিদ থেকে ডাকাত পড়ার কথা জানিয়েছে।”
একইভাবে ডাকাত পড়ার আতঙ্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছেন অনেকে।
নগরীর স্ব–রোড বাকলার মোড় এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম লিখেছেন– “ডাকাত এসেছে, ডাকাত এসেছে এমন মাইকিং মসজিদ থেকে শোনা গেছে।”
এমনভাবে নগরীর কালুশা সড়ক, সিএন্ডবি রোড, ভাটিখানা, কাউনিয়া, উজিরপুর এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও আশে–পাশের এলাকার বাসিন্দারা ‘মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার প্রচার করা হয়েছে’ বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
তবে কোথায় প্রথম এ ধরনের প্রচার হয়েছে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
নগরীর এনজিও ব্যক্তিত্ব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু মন্তব্য করেন, “অবশ্যই এ ধরনের ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যেসব মসজিদ থেকে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হোক।”
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল মন্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সকালে শুনেছি। উত্তর দিক দিয়া, বাবুগঞ্জ থেকে শুরু হইছে। পরে খবর নেবো।”
বরিশাল জেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার মসজিদের ক্যাশিয়ার ফোন দিয়ে আমাকে জাগিয়েছে। উঠার পর আমিও একটি মসজিদের মাইক থেকে বলছে ‘এলাকায় ডাকাত পড়ছে, আপনারা সতর্ক থাকুন’ এমন ঘোষণা শুনেছি।
“বাবুগঞ্জ, নবগ্রাম রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় শুনেছি। কিন্তু কথাটার বাস্তবতা কতটুকু বলতে পারবো না।”
তবে মাইকিং করেছে, এমন কোনো মসজিদের কারো সঙ্গে কথাও হয়নি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “সকালে কয়েকজনকে ফোন দিয়েছি। তারা বলছে জানেন না।”
নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড মহাবাজ পঞ্চায়েত বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আল–আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাতে তিনিও ফেসবুকে ডাকাত আতঙ্কে দেখেছেন। তিনিও মাইকে সতর্ক থাকার কথা প্রচার করবেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু কিছু নিশ্চিত হতে না পারায় আর করেননি।”
মন্তব্য করুন